বিবরণ |
১৯৭১ সালে যুদ্ধ না বাধলে শেখ মুজিবুর রহমানই হতেন পাকিস্তানের সরকারপ্রধান। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর দল এলোমেলো হয়ে পড়ে। কারণ, তিনি কোনো দিকনির্দেশনা দিয়ে যাননি। ফলে দেখা যায়, কলকাতায় বসে নেতারা নানান ইস্যুতে কোন্দল করছেন। সব ছাপিয়ে উঠে এসেছিল একটি বিষয়—ভারত সরকারের পরিকল্পনায় সমর্পিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অপেক্ষা করা, নাকি অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে একটা আশু নিষ্পত্তির চেষ্টা করা। দেখা গেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে একটা ফয়সালার জন্য কেউ কেউ ঝুঁকেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। এ নিয়েই প্রবাসী সরকারে বিরোধ ও কোন্দল, যার কেন্দ্রে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ। প্রবাসী সরকার ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের যে একটা ‘গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি ছিল’, মুক্তিযুদ্ধ তার অংশ হয়ে পড়ে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করে। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নেয়। ফলে বাংলাদেশ হয়ে পড়ে দুই পরাশক্তির ছায়াযুদ্ধের ক্ষেত্র। তাজউদ্দীন-মোশতাক দ্বন্দ্ব ছিল তারই প্রতিফলন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বুঝতে হলে দুই পরাশক্তির মধ্যকার দ্বন্দ্ব বোঝা দরকার। |